বলে রাখি, ‘ডিগ্রি কা লাড্ডু’ মোটেও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক বই নয়। জার্মানিতে লেখক পড়াশোনা করতে গিয়েছিল। কিন্তু গিয়ে দেখল ও দেশে ডিগ্রি নেওয়ার মতো ঘিলু তার মগজে নেই। তাছাড়া পিএইচডি সুপারভাইজার জুটেছে এক বাঁজখাই তুর্কি প্রফেসর। ছাত্রকে তুর্কি নাচ নাচাতে তার বড্ড ভালো লাগে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশি হাবাগোবা মেয়েটা পরীক্ষায় প্রায় ফেল-টেল করে একাকার। তাতে অবশ্য সে দমে গেল না; বরং আর সব ছাত্রদের সাথে মিলে গ্র্যাজুয়েশন স্কুলের মজার জীবন সে চুটিয়ে উপভোগ করতে লাগল। কারণ, এত পড়াশোনা করে কি হবে! চারপাশের জগতটা দেখাশোনা করাটাও একটা জরুরি কাজ। এমন ইচিং-বিচিং করে দিন কাটিয়ে দেওয়া যার স্বভাব, সে আদৌ পিএইচডি নামক পুলসিরাত পার হতে পারবে কি না সে খবর জানতে হলে ‘ডিগ্রি কা লাড্ডু’র স্বাদ নিতে হবে কৌতূহলী পাঠককে।
পাতা উল্টে যদি ‘তেপান্তরের মেয়ে’র ঠিকানায় পৌঁছানো যায়, তাহলে দেখা মিলবে ভিনদেশি এক রাজকন্যার। ইচ্ছে হবে, তুষার ঢাকা মাঠ ধরে তার হাত ধরে ছুটে যেতে দূর দিগন্তে। আবার বইয়ের এগুলি-ওগুলি ঘুরলেই পাঠক এসে দাঁড়াবে অদ্ভুত এক ‘ভালো বাসা’র সামনে। তবে ভেতরে না ঢোকাই মঙ্গল। হয় কেউ গঁজায় কন্ধে দিচ্ছে, নয়তো কেউ নুডুলস রাঁধছে তোয়ালেবিহীন দাঁড়িয়ে।
আর পাঠক যদি বিনে পয়সায় নতুন ভাষা শিখতে চান, তাহলে ভিড়ে যেতে হবে এক দঙ্গল শরণার্থীর সাথে ‘ভাষা শিক্ষা-আশা শিক্ষায়’। সিরিয়া থেকে আসা পাংকু চেহারার জামাল, ইরাকের মোস্তফা ওরফে ‘মো’ আর বলকান সুন্দরী মিনার্ভা মিলে পাঠকের জার্মানির লেভেল বি-ওয়ানে তুলে দেবে ঠেলেঠুলে। ভাষাটা চলনসই রকমের শিখে নিয়ে এবার সে দেশের ইতিহাস জানতে ঝোলা কাঁধে বেরিয়ে পড়া যাক, আর রাস্তাও যে খুব সোজা। ‘চিপি বাবার ফুটপাথ’ ধরে এগোলেই ‘রাইটেনহাসলাথের দুর্গে’ উপস্থিত। দুর্গদর্শন শেষে জার্মানির ‘অটোবান’-এর দুর্বার গতি স্বাদ নিতে চাইলে ‘অটো-কাহিনি’র পাতায় চড়ে বসতে হবে গ্যাট হয়ে। আবার মিউনিখের ট্রেনে-ট্রামে চেপে শহুরে ফুড-ব্লগার বনে ‘খাদ্যরস’ চাখতেও বা দোষ কী। বিদেশের পথে ঘুরে ঘুরে পাঠকের হোম-সিকনেস পেয়ে বসলে কিন্তু সর্বনাশ। তখন তাকে এক লহমায় তুলে নিয়ে ফেলা হবে রয়েল বেঙ্গল বাঘের ডেরায়। ‘গন্তব্য সুন্দরবন’-এ লঞ্চের ডেকে আধেক ভ্রমণ আর আধেক রোমাঞ্চে সময় কাটবে তুমুল আনন্দে।
সর্বোপরি, ‘ডিগ্রি কা লাড্ডু’ পড়ে পাঠকের মিষ্টিমুখ হলে, সেটাই হবে লেখকের সবচেয়ে বড় ইনামী।















Reviews
There are no reviews yet.