Matrivasha Prokash

'মায়াবতী'র বিস্ময়কর আত্মপ্রকাশ
প্রথম প্রকাশের কয়েকদিনের মাথায় দ্বিতীয় মুদ্রণে যেতে হলো মো. সাইফুর রহমানের গল্পগ্রন্থ ‘মায়াবতী’র। বইমেলা ২০২১ উপলক্ষে মাতৃভাষা প্রকাশ থেকে বেরিয়েছে এটি। যদিও মেলা শুরু হতে এখনো তিনদিন বাকী, কিন্তু এরই মধ্যে মায়াবতীর দ্বিতীয় মুদ্রণও শেষের পথে। একজন প্রকাশক হিসেবে এটা আমার জন্য আনন্দেরই নয়,উত্তেজনাকরও বটে!
 
মায়াবতী’ গল্পগ্রন্থটি আমি প্রকাশ করেছি একজন পাঠক হিসেবে, প্রকাশক হিসেবে নয়। গত ২০২০-এর বইমেলায় মো. সাইফুর রহমানের প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ ‘গুনিন’-এর গল্পগুলো পড়ে আমার বিস্মিত পাঠক মন বলেছিল, বাংলা ছোটগল্পের নগরীতে এই শব্দের কারিগর এসেছেন নতুন নতুন প্রাসাদ নির্মাণ করতে। বইটি আমার হাতে পৌঁছে দিয়ে এর অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো সার্থক ছোটগল্প হয়ে ওঠার ব্যাপারে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিল লেখক, গবেষক, বিজ্ঞানী ড. মুশতাক ইবনে আয়ূব। মূলত তখনই পাঠক মন আমার প্রকাশক সত্তাকে নিদের্শনা দেয়, শক্তিমান ছোটগল্পকার মো. সাইফুর রহমানের বই প্রকাশ করতে। মাত্র এক বছরের মাথায় সেই লেখকের গল্পগ্রন্থ ‘মায়াবতী’ প্রকাশ করতে পারার আনন্দে এখন আমি উদ্বেল! এই সুন্দর মুহূর্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রফেসর ড. ইকবাল রউফ মামুনের প্রতি, যিনি আমাদের লেখক-প্রকাশক সম্মিলন ঘটাতে ভূমিকা রেখেছেন।
 
মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিনের নীল আলোর আগ্রাসনে যখন আমাদের কথাসাহিত্যের নদীতে ভাটার টান, তখন সাইফুর রহমান এসেছেন এক সমুদ্র সম্ভাবনা নিয়ে।ছোটগল্পের দর্পণে সমসাময়িক সমাজচিত্রের যে প্রতিবিম্ব ফুটে ওঠার কথা, তার সফল বাস্তবায়ন মো. সাইফুর রহমানের গল্পে দেখা যায়। তিনি সমবেদী,সূক্ষ্মদর্শী এবং আধুনিকমনস্ক গল্পকার। তাঁর গল্পে আশ্চর্য হবার মতো উপকরণ মেলে। তিনি জীবনের হাসি-আনন্দ, দুঃখ-কষ্টগুলোকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন, আর শেষ পর্যন্ত তাঁর লেখার সমাপ্তি ঘটে এক রহস্যময়তার আবহে। একটি ছোটগল্পকে সার্থক পরিসমাপ্তিতে নিতে এটিকে বৃহৎ অবয়ব দেয়ার যে প্রবণতা লক্ষণীয়, বিশেষত রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করতে গিয়ে অনেকে সেটা করেন; সাইফুর রহমান এখানে ব্যতিক্রম। তাঁর গল্পগুলো আকারে, আকৃতিতে ছোট ও সুখপাঠ্য। তবে এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা আছে। আছে প্রতিটি গল্পের ক্ষুদ্রায়তনের মধ্যে বৃহদের ইঙ্গিত।
 
স্বতন্ত্র প্রতিভাস্পর্শে কথাসাহিত্যের নবাগত যুবরাজ সাইফুর রহমান প্রতিটি গল্পকেই সার্থক ও সফল করে তুলেছেন। গল্পগুলোর প্রেক্ষাপটের স্বাতন্ত্র্য, বিষয়ের বৈচিত্র্য সব পাঠককে আমার মতোই মুগ্ধ করবে,সেটাই প্রত্যাশা।
 
শুরুতেই পাঠক মহলে সাড়া জাগানো এ বইটির দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ এঁকেছেন রহমান আজাদ।
বইটি এখন পাওয়া যাচ্ছে, বাংলাবাজারস্থ মাতৃভাষা প্রকাশের বিক্রয়কেন্দ্রে এবং রকমারি ডট কমে।

Leave a Reply